বাংলাদেশ ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের চিন্তা করছে অন্তর্বর্তী সরকার

ইনসাফ বিশ্ব ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:২৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 94

ছবি: মুহাম্মদ ইউনূস

Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র মতভেদের কারণে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করছে।

সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা চলছে। যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই বিষয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় উঠে আসে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উপদেষ্টাদের মতামত জানতে চাইলে অধিকাংশই নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে করার পক্ষে মত দেন। তবে তিনি কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেননি।

এর আগে, গত মঙ্গলবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রস্তাবনা সরকারের হাতে তুলে দেয়। প্রস্তাবে বলা হয়, সনদের সাংবিধানিক অংশগুলো গেজেট আকারে প্রকাশ করে গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদন নিতে হবে। গণভোটে অনুমোদন পেলে নতুন সংসদ ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে।

কমিশনের সুপারিশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয় তীব্র বিতর্ক। বিএনপি দাবি করেছে, সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের গণভোট আয়োজনের ক্ষমতা নেই। তাদের মতে, নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন অযৌক্তিক ও অপ্রয়োজনীয়।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি দল নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজন ও পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন চালাচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, সরকারের পদক্ষেপ দেখেই তারা সনদে স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নেবে।

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “দীর্ঘ আলোচনার পরেও রাজনৈতিক ঐক্যমত্য তৈরি না হওয়া হতাশাজনক। এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সমঝোতার মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন।”

তিনি আরও বলেন, “সংস্কারের পদ্ধতি ও গণভোটের সময়—এই দুই ইস্যুতে নতুন করে বিভাজন দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় সরকারের করণীয় নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে।”

বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল বলেন, “গণভোটের সময় নিয়ে বিরোধ এখন চরমে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত সরকারকেই নিতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন এবং সেটিতেই দৃঢ় থাকবেন।”

সরকার ফেব্রুয়ারির শুরুতেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে ঐক্যমত্য না হলে নির্বাচন ও সংস্কার—দুটি ইস্যুই সরকারের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অন্যদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “সরকার কমিশনের প্রস্তাবগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করছে। দ্রুতই পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের চিন্তা করছে অন্তর্বর্তী সরকার

আপডেট সময় : ০২:২৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র মতভেদের কারণে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করছে।

সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা চলছে। যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই বিষয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় উঠে আসে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উপদেষ্টাদের মতামত জানতে চাইলে অধিকাংশই নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে করার পক্ষে মত দেন। তবে তিনি কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেননি।

এর আগে, গত মঙ্গলবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রস্তাবনা সরকারের হাতে তুলে দেয়। প্রস্তাবে বলা হয়, সনদের সাংবিধানিক অংশগুলো গেজেট আকারে প্রকাশ করে গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদন নিতে হবে। গণভোটে অনুমোদন পেলে নতুন সংসদ ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে।

কমিশনের সুপারিশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয় তীব্র বিতর্ক। বিএনপি দাবি করেছে, সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের গণভোট আয়োজনের ক্ষমতা নেই। তাদের মতে, নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন অযৌক্তিক ও অপ্রয়োজনীয়।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি দল নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজন ও পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন চালাচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, সরকারের পদক্ষেপ দেখেই তারা সনদে স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নেবে।

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “দীর্ঘ আলোচনার পরেও রাজনৈতিক ঐক্যমত্য তৈরি না হওয়া হতাশাজনক। এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সমঝোতার মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন।”

তিনি আরও বলেন, “সংস্কারের পদ্ধতি ও গণভোটের সময়—এই দুই ইস্যুতে নতুন করে বিভাজন দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় সরকারের করণীয় নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে।”

বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল বলেন, “গণভোটের সময় নিয়ে বিরোধ এখন চরমে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত সরকারকেই নিতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন এবং সেটিতেই দৃঢ় থাকবেন।”

সরকার ফেব্রুয়ারির শুরুতেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে ঐক্যমত্য না হলে নির্বাচন ও সংস্কার—দুটি ইস্যুই সরকারের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অন্যদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “সরকার কমিশনের প্রস্তাবগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করছে। দ্রুতই পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন :