বাংলাদেশ ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

সরকারের হুঁশিয়ারিতে পেঁয়াজের দাম কমছে বাজারে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:১৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • / 85

ছবি: পেয়াজ

Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাজারে কয়েকদিনের উর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের সতর্কবার্তা কার্যকর হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়া পেঁয়াজের দাম গতকাল থেকে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে রোববার কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয় পেঁয়াজ, যা কয়েকদিন আগেও ১২০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত ছিল।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির গুজব ছড়ানোর পরই দাম কমতে শুরু করেছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “আমদানির খবর ছড়ানোর পর আড়ত থেকেই দাম কমে গেছে, তাই আমরাও কম দামে বিক্রি করছি। দুই এক দিনের মধ্যেই দাম আরও কমতে পারে।”

রাজধানীর শান্তিনগর, নয়াবাজার, হাতিরপুল ও পলাশী বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে—বিক্রেতারা আগের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা কমে বিক্রি করছেন।

সরকারের অবস্থান ও হুঁশিয়ারি:

রোববার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, “দেশে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। যথেষ্ট মজুত রয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তবুও যদি আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে দাম না কমে, তাহলে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ২ হাজার ৮০০টি পেঁয়াজ আমদানির আবেদন জমা পড়েছে। এসবের মাত্র ১০ শতাংশ অনুমোদন দিলেই বাজারে সরবরাহ বেড়ে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাই সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য:

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. মো. জামাল উদ্দীন বলেন, “এ মুহূর্তে দেশে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ কৃষকদের হাতে আছে। কোনো সংকট নেই, বাজারেও সরবরাহ স্বাভাবিক। অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে আমদানির সুযোগ নিতে চাইছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “ট্যারিফ কমিশনের কিছু সুপারিশ আমদানিকারক গোষ্ঠীর প্রভাবে করা হতে পারে।”

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস. এম. নাজের হোসাইন বলেন, “বাজারে কারসাজি বন্ধ না করে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হলে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়বে। দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।”

সরকারের কড়া নজর:

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, “দেশে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে, তাই মজুতদারি বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কেউ দাম বাড়ালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সরকারের হুঁশিয়ারি ও বাজারে আমদানির গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। ফলে আশা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

সরকারের হুঁশিয়ারিতে পেঁয়াজের দাম কমছে বাজারে

আপডেট সময় : ০৭:১৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

বাজারে কয়েকদিনের উর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের সতর্কবার্তা কার্যকর হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়া পেঁয়াজের দাম গতকাল থেকে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে রোববার কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয় পেঁয়াজ, যা কয়েকদিন আগেও ১২০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত ছিল।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির গুজব ছড়ানোর পরই দাম কমতে শুরু করেছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “আমদানির খবর ছড়ানোর পর আড়ত থেকেই দাম কমে গেছে, তাই আমরাও কম দামে বিক্রি করছি। দুই এক দিনের মধ্যেই দাম আরও কমতে পারে।”

রাজধানীর শান্তিনগর, নয়াবাজার, হাতিরপুল ও পলাশী বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে—বিক্রেতারা আগের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা কমে বিক্রি করছেন।

সরকারের অবস্থান ও হুঁশিয়ারি:

রোববার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, “দেশে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। যথেষ্ট মজুত রয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তবুও যদি আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে দাম না কমে, তাহলে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ২ হাজার ৮০০টি পেঁয়াজ আমদানির আবেদন জমা পড়েছে। এসবের মাত্র ১০ শতাংশ অনুমোদন দিলেই বাজারে সরবরাহ বেড়ে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাই সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য:

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. মো. জামাল উদ্দীন বলেন, “এ মুহূর্তে দেশে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ কৃষকদের হাতে আছে। কোনো সংকট নেই, বাজারেও সরবরাহ স্বাভাবিক। অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে আমদানির সুযোগ নিতে চাইছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “ট্যারিফ কমিশনের কিছু সুপারিশ আমদানিকারক গোষ্ঠীর প্রভাবে করা হতে পারে।”

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস. এম. নাজের হোসাইন বলেন, “বাজারে কারসাজি বন্ধ না করে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হলে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়বে। দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।”

সরকারের কড়া নজর:

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, “দেশে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে, তাই মজুতদারি বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কেউ দাম বাড়ালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সরকারের হুঁশিয়ারি ও বাজারে আমদানির গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। ফলে আশা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :