বাংলাদেশ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

জাতীয় নির্বাচনের আগে কেন গণভোট নয়!

ড. শাহাবুদ্দীন আহমেদ
  • আপডেট সময় : ০১:৪১:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • / 121

ছবি: ড. শাহাবুদ্দীন আহমেদ

Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় নির্বাচন ঘিরে গণভোটের প্রসঙ্গটি এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত। অনেকেই মনে করছেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন কিংবা রাজনৈতিক সংস্কারের পথে গণভোট হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এ মুহূর্তে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আদৌ বাস্তবসম্মত কি না? বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এমন উদ্যোগ নিলে অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও আইনগত নানা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

১। গণভোট গ্রহণ করতে হলে একটি জাতীয় নির্বাচনের সমান ব্যয় হবে যেটা আনুমানিক ৩ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থ দিয়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে অপর একটি পদ্মা সেতু করা সম্ভব।

২। প্রচন্ড অর্থ কষ্টে থাকা অন্তর্বর্তী সরকারে গণভোটের অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহ করতে গেলে দেশে ব্যাপক হারে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে, বাধাগ্রস্ত হবে জিডিপি।

৩। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট গ্রহণ করার মত সময় এবং রিসোর্স নির্বাচন কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে নাই।

৪। গণভোটার কারণে কোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির উদ্ভব হলে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

৫। বৃহৎ একটা জনগোষ্ঠীর উপর নির্বাচনের আগে গণভোট চাপিয়ে দিলে সেটার ফলাফলে জুলাই অভভুত্থানের পক্ষে নাও আসতে পারে। মনে রাখা দরকার, এখনো দেশের অন্তত ২০ শতাংশ মানুষ আওয়ামীলীগের পক্ষে। উপর্যুপরি এর সাথে যদি অন্যেরা যুক্তু হয় তাহলে পরিস্থিতি কি হতে পারে সেটা সহজেই অনুমেয়।

৬। গণভোটের বিধান বর্তমান সংবিধানে নাই। নির্বাহী আদেশ বা অধ্যাদেশের মাদ্ধমে সেটার বৈধতা দিতে গেলে নতুন আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হবে, যেমন গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হতে কত শতাংশ পক্ষে থাকতে হবে সেটা নির্ধারণ করতে হবে। অনেকে বলতে পারেন সেটা নর্ধারণ করতে আবার আরো একটা গণভোট দরকার। বড় কথা হচ্ছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হলেও তো সংসদ লাগবে। গণভোটে হ্যাঁ বা না যেটাই জয়যুক্ত হোক সেটার বাস্তবায়নও কি আদেশের মাদ্ধমে করবেন?

৭। দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্তিতির আরো অবনতির সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ পতিত স্বৈরাচারেরা দেশকে বিভক্ত করতে সব সময় সুযোগের সন্ধানে রয়েছে।

৮। সমানে নভেম্বর/ডিসেম্বরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সমাপনী পরীক্ষা থাকে।
ভোটগ্রহণ যেহেতু স্কুল কলেজগুলোতে হয়ে থাকে সুতরাং গণভোট গ্রহণ করতে গেলে অন্তত ১/২ সপ্তাহ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত হবে।

সুতরং সবচেয়ে উত্তম হবে জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট গ্রহণ তাতে শুধুমাত্র একটা নতুন ব্যালটের খরচ বাড়বে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের দিন হলে নতুন সরকার সাথে সাথেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ণের জন্য সংসদে বিল উত্থাপন করতে পারবে। আইনগত জটিলতাও থাকবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

জাতীয় নির্বাচনের আগে কেন গণভোট নয়!

আপডেট সময় : ০১:৪১:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

জাতীয় নির্বাচন ঘিরে গণভোটের প্রসঙ্গটি এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত। অনেকেই মনে করছেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন কিংবা রাজনৈতিক সংস্কারের পথে গণভোট হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এ মুহূর্তে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আদৌ বাস্তবসম্মত কি না? বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এমন উদ্যোগ নিলে অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও আইনগত নানা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

১। গণভোট গ্রহণ করতে হলে একটি জাতীয় নির্বাচনের সমান ব্যয় হবে যেটা আনুমানিক ৩ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থ দিয়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে অপর একটি পদ্মা সেতু করা সম্ভব।

২। প্রচন্ড অর্থ কষ্টে থাকা অন্তর্বর্তী সরকারে গণভোটের অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহ করতে গেলে দেশে ব্যাপক হারে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে, বাধাগ্রস্ত হবে জিডিপি।

৩। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট গ্রহণ করার মত সময় এবং রিসোর্স নির্বাচন কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে নাই।

৪। গণভোটার কারণে কোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির উদ্ভব হলে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

৫। বৃহৎ একটা জনগোষ্ঠীর উপর নির্বাচনের আগে গণভোট চাপিয়ে দিলে সেটার ফলাফলে জুলাই অভভুত্থানের পক্ষে নাও আসতে পারে। মনে রাখা দরকার, এখনো দেশের অন্তত ২০ শতাংশ মানুষ আওয়ামীলীগের পক্ষে। উপর্যুপরি এর সাথে যদি অন্যেরা যুক্তু হয় তাহলে পরিস্থিতি কি হতে পারে সেটা সহজেই অনুমেয়।

৬। গণভোটের বিধান বর্তমান সংবিধানে নাই। নির্বাহী আদেশ বা অধ্যাদেশের মাদ্ধমে সেটার বৈধতা দিতে গেলে নতুন আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হবে, যেমন গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হতে কত শতাংশ পক্ষে থাকতে হবে সেটা নির্ধারণ করতে হবে। অনেকে বলতে পারেন সেটা নর্ধারণ করতে আবার আরো একটা গণভোট দরকার। বড় কথা হচ্ছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হলেও তো সংসদ লাগবে। গণভোটে হ্যাঁ বা না যেটাই জয়যুক্ত হোক সেটার বাস্তবায়নও কি আদেশের মাদ্ধমে করবেন?

৭। দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্তিতির আরো অবনতির সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ পতিত স্বৈরাচারেরা দেশকে বিভক্ত করতে সব সময় সুযোগের সন্ধানে রয়েছে।

৮। সমানে নভেম্বর/ডিসেম্বরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সমাপনী পরীক্ষা থাকে।
ভোটগ্রহণ যেহেতু স্কুল কলেজগুলোতে হয়ে থাকে সুতরাং গণভোট গ্রহণ করতে গেলে অন্তত ১/২ সপ্তাহ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত হবে।

সুতরং সবচেয়ে উত্তম হবে জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট গ্রহণ তাতে শুধুমাত্র একটা নতুন ব্যালটের খরচ বাড়বে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের দিন হলে নতুন সরকার সাথে সাথেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ণের জন্য সংসদে বিল উত্থাপন করতে পারবে। আইনগত জটিলতাও থাকবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন :