জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইসের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠক—গণতন্ত্র, নির্বাচন ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনায় সহায়তার আশ্বাস
নির্বাচনে কারিগরি সহায়তা দেবে জাতিসংঘ: আশাবাদী সব দলের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ভোট
- আপডেট সময় : ০৪:৩৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
- / 164
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) কারিগরি সহায়তা দেবে জাতিসংঘ। রবিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস।
তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ এর স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক আয়োজন নিশ্চিত করতে কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত। আমরা আশা করি, সকল রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে যুক্ত হয়ে দেশের গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করবে।”
বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আমীর খসরু জানান, “আমরা বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট, নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আলোচনার মূল বিষয় ছিল—বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অর্ডার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সেই লক্ষ্যে জাতিসংঘের ভূমিকা।”
তিনি আরও বলেন, “জাতিসংঘের চার্টার অনুযায়ী প্রতিটি দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক ও মানবাধিকারের প্রতি গোয়েন লুইস সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”
বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন ইস্যুও গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা জানান, “রোহিঙ্গারা যে মানবেতর জীবনযাপন করছে তা নিয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। জাতিসংঘ জানিয়েছে, তাদের প্রত্যাবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হবে।”
বিএনপি নেতারা আশা প্রকাশ করেন, জাতিসংঘের সহযোগিতায় একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে গোয়েন লুইস বলেন, “এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। সকল পক্ষের সমন্বয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সর্বদা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৈঠকে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি পুনঃস্থাপন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক বোঝাপড়া নিয়েও আলোচনা হয়।
জাতিসংঘের এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।























