বাংলাদেশ ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

জাজিরায় পদ্মার ভাঙনে স্কুল বিলীন

খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান

জাজিরা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৪১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪
  • / 261

ছবি: ইনসাফ বিশ্ব

Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাইনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পদ্মা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে। বর্তমানে পদ্মা সেতু প্রকল্পের অধিগ্রহণকৃত একটি জমিতে অস্থায়ীভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন শিক্ষকরা। নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয় বলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বিদ্যালয়ের অবস্থান ও ভাঙনের ইতিহাস

পাইনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে প্রথম নদীভাঙনের শিকার হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় পদ্মা নদীর পাইনপাড়া চরে ৩৩ শতাংশ জমির ওপর পাঁচ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে চলতি বর্ষায় ভবনটি ভেঙে যাওয়ার পর ৫ অক্টোবর বিদ্যালয়টি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়। এরপর শিক্ষকরা অস্থায়ীভাবে নাওডোবা এলাকায় পাঠদান শুরু করেন।

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ও শিক্ষার পরিবেশ

পদ্মা সেতু প্রকল্পের অধিগ্রহণকৃত একটি জায়গায় খোলা আকাশের নিচে এবং একটি মাদ্রাসার রান্নাঘরের বারান্দায় ক্লাস চলছে। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করছে। নলকূপ থাকলেও টয়লেটের কোনো ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে আসতে শিক্ষার্থীদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। ফলে বিশেষত প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণির শিশুরা বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমনা ও মেহেদী হাসান জানায়, তারা সাঁতার জানে, কিন্তু নদী পাড়ি দিতে ভয় পায়। তবে পড়ালেখার ইচ্ছায় প্রতিদিন নাওডোবা আসতে হয়। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিশাতুল রায়হানা ও আবু রায়হান জানায়, তাদের বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার পর বিদ্যালয়টিও একই পরিণতি বরণ করেছে। তারা দ্রুত একটি স্থায়ী বিদ্যালয়ের দাবি জানিয়েছে।

শিক্ষক ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম মিয়া জানান, সামনে চূড়ান্ত পরীক্ষা থাকায় খোলা আকাশের নিচে ক্লাস চালানো হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে বিদ্যালয় কোথায় পরিচালিত হবে তা নিয়ে তিনি চিন্তিত। বিষয়টি জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাদের জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়ামত হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের শিকার হয়েছে বলে শুনেছেন, তবে সরেজমিনে দেখা হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাবেরি রায় বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তবে দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

আরো পড়ুন

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

জাজিরায় পদ্মার ভাঙনে স্কুল বিলীন

খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান

আপডেট সময় : ০৬:৪১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাইনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পদ্মা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে। বর্তমানে পদ্মা সেতু প্রকল্পের অধিগ্রহণকৃত একটি জমিতে অস্থায়ীভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন শিক্ষকরা। নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয় বলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বিদ্যালয়ের অবস্থান ও ভাঙনের ইতিহাস

পাইনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে প্রথম নদীভাঙনের শিকার হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় পদ্মা নদীর পাইনপাড়া চরে ৩৩ শতাংশ জমির ওপর পাঁচ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে চলতি বর্ষায় ভবনটি ভেঙে যাওয়ার পর ৫ অক্টোবর বিদ্যালয়টি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়। এরপর শিক্ষকরা অস্থায়ীভাবে নাওডোবা এলাকায় পাঠদান শুরু করেন।

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ও শিক্ষার পরিবেশ

পদ্মা সেতু প্রকল্পের অধিগ্রহণকৃত একটি জায়গায় খোলা আকাশের নিচে এবং একটি মাদ্রাসার রান্নাঘরের বারান্দায় ক্লাস চলছে। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করছে। নলকূপ থাকলেও টয়লেটের কোনো ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে আসতে শিক্ষার্থীদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। ফলে বিশেষত প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণির শিশুরা বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমনা ও মেহেদী হাসান জানায়, তারা সাঁতার জানে, কিন্তু নদী পাড়ি দিতে ভয় পায়। তবে পড়ালেখার ইচ্ছায় প্রতিদিন নাওডোবা আসতে হয়। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিশাতুল রায়হানা ও আবু রায়হান জানায়, তাদের বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার পর বিদ্যালয়টিও একই পরিণতি বরণ করেছে। তারা দ্রুত একটি স্থায়ী বিদ্যালয়ের দাবি জানিয়েছে।

শিক্ষক ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম মিয়া জানান, সামনে চূড়ান্ত পরীক্ষা থাকায় খোলা আকাশের নিচে ক্লাস চালানো হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে বিদ্যালয় কোথায় পরিচালিত হবে তা নিয়ে তিনি চিন্তিত। বিষয়টি জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাদের জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়ামত হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের শিকার হয়েছে বলে শুনেছেন, তবে সরেজমিনে দেখা হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাবেরি রায় বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তবে দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

আরো পড়ুন

সংবাদটি শেয়ার করুন :