দুবার আবেদন করেও বাংলা একাডেমির সদস্যপদ পাননি: সলিমুল্লাহ খান
- আপডেট সময় : ০১:১২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪
- / 243
বাংলা একাডেমির সাধারণ সদস্যপদ পেতে দুবার আবেদন করেও কোনো সাড়া পাননি বিশিষ্ট লেখক ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “দুবার বাংলা একাডেমির সাধারণ সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছিলাম, কিন্তু একাডেমি সেই আবেদন আমলে নেয়নি। এমনকি বাংলা একাডেমির লেখক অভিধানেও আমার নাম যুক্ত করা হয়নি।”
বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত “গণতান্ত্রিক বিপ্লবে কবিতা ও কবিদের কবিতা পাঠ” শীর্ষক আলোচনায় প্রধান বক্তা হিসেবে সলিমুল্লাহ খান এ কথা বলেন। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের জাতীয় কবিতা উৎসবে সলিমুল্লাহ খান শামসুর রাহমানের ‘স্যামসন’ কবিতা নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে একদল তরুণ কবি তাঁকে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকে তিনি আর জাতীয় কবিতা পরিষদের কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেননি।
ফ্যাসিবাদ ও গণতন্ত্রের সংকট
অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান ফ্যাসিবাদের প্রভাব নিয়ে বলেন, “ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশে গণতন্ত্র শব্দটিকেই অর্থহীন করে তুলেছে। ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা চলমান থাকায় গণতন্ত্রের প্রকৃত অর্থ হারিয়ে গেছে।” তিনি দাবি করেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করেছে এবং জনগণের ওপর নির্যাতন চালিয়ে গণতন্ত্রকে তিরোহিত করেছে।
অধ্যাপক খান আরও বলেন, “এই শাসনব্যবস্থা মানুষের অধিকার খর্ব করে, মানুষকে গুম করে রাখে। এটি কি আসলেই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা?” তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈধতা দিয়েছে, আর সংবিধানের মূল কথা—মানুষে মানুষে বৈষম্য না থাকা—নিজেই নিজেকে বিলুপ্ত করেছে।
স্বৈরতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক বিপ্লব
সলিমুল্লাহ খান বলেন, “তিন ধরনের শাসনব্যবস্থার মধ্যে সমাজতন্ত্র যখন অধোগতির দিকে যায়, তখন সেটিকে আমরা গণতন্ত্র বলি। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা কেবল স্বৈরতন্ত্রই দেখতে পাচ্ছি।” গণতান্ত্রিক বিপ্লবের বিষয়ে তিনি বলেন, “যদি আমরা অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে পারি, তবে গণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল হবে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।”
তিনি আরও বলেন, “স্বল্প সময়ে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব, যাতে তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে। তাহলে ছাত্র-জনতার গণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল হবে।”
সরকার উৎখাত ও অভিযোগ
সরকার বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা প্রসঙ্গে সলিমুল্লাহ খান বলেন, “সরকার উৎখাতের অভিযোগ আনা হয়েছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু যারা দীর্ঘদিন ক্ষমতা ধরে রেখে জনগণের ওপর অত্যাচার করেছে, তাদেরই প্রকৃত জঙ্গি বলা উচিত।”
জাতীয় কবিতা পরিষদের ভূমিকা
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে জাতীয় কবিতা পরিষদের ভূমিকা নিয়ে সলিমুল্লাহ খান সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের আগে জাতীয় কবিতা পরিষদের আন্দোলনে কী ভূমিকা ছিল? তারা মানুষের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা কবি না, হয়ে গেছেন আমলা। কবিদের শুধু কবিতা লিখলেই হবে না, সমাজেও তাদের ভূমিকা থাকতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবিতা পরিষদের আহ্বায়ক কবি মোহন রায়হান। স্বাগত ভাষণ দেন পরিষদের সদস্যসচিব কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন। বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গীতিকবি শহীদুল্লাহ্ ফরাজী ও মনিরুল ইসলাম মনি।
কবি মোহন রায়হান বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সহযোগী কবিরা আজ পালিয়ে গেছে। কিন্তু কবিদের পালানোর কথা না। তারা জাতির বিবেক, সততা, প্রেম ও দ্রোহের প্রতীক। কবিরা এ দেশে স্বৈরাচারের পুনর্বাসন দেখতে চায় না।”
























