শান্তির দূতের আগমন
- আপডেট সময় : ১২:০৮:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৪
- / 439
পৃথিবীতে অদ্যবধি একে একে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রাসুল আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলামকে মানব সমাজে প্রচার ও প্রসারের জন্য প্রেরণ করেছেন। তন্মধ্যে সর্বশেষ নবী ও রাসূল হলেন মহা নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সঃ)। তাহার সময়েই ইসলাম ধর্মের পূর্ণতা লাভ করে।
তাহার পরে কেয়ামত পর্যন্ত আর কোন নবী ও রাসূল আগমন করিবে না। এ-জন্য তাহাকে ‘খাতেমুন নাবেইন” বলা হয়। নবীকূল শ্রেষ্ঠ, আখেরী নবী, সর্ব শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে রবিউল আওয়াল মাসের ১২ তারিখ, রোজ সোমবার ডুবেহ-ছাদেকের সময় মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমেনার গর্ভ ধেতে তার কোল জুড়ে পৃথিবীতে শুভাগমন করেন।
এই বিশ্ব মানবতা ও শান্তির দূত হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সঃ)। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, মুক্তির দিশারী মহানবী (সঃ) জন্ম ও ওফাতের পবিত্র স্মৃতি বিজড়িত এই দিনটি সারা বিশ্বের মানুষের জন্য বিশেষ করে মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মহিমান্নিত এবং আনন্দের।
তার জন্মের আগে অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল পুরা আরব জাতি। গোত্রে গোত্রে বংশ পরমপারায় মারামারি হানাহানি ছিল নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার। গোত্রীয় প্রধানের মৃত্যু হলেও পরবর্তী ওয়ারিশগণকে তাহার শত্রুদের উপর প্রতিশোধ নেওয়া অব্যহত রাখার ওছিয়ত করে যেতেন। সে কারনে এই যুগকে বলা হতো ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’ এর যুগ
এই অন্ধকার যুগ থেকে মানুষকে আলোর পথ দেখাতে মহানবী (সঃ) কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দুনিয়াতে প্রেরণ করেন। মহানবী (সঃ) এর অনুসরণের মাধ্যমে যে কোন ব্যক্তির জীবন হতে পারে শান্তিময়। হোক সে মুসলমান, হিন্দু, ইহুদী, খ্রিষ্টান অথবা, অন্য যে কোন ধর্মের অনুসারী। কারণ মহানবী (সঃ) কে আল্লাহ তা’য়ালা কোন বিশেষ জাতির জন্য পাঠান নাই। তাকে পাঠানো হয়েছে সমগ্র সৃষ্টিকুলের মঙ্গলের জন্য।
এই মানব দরদী, উম্মত দরদী নবী (সঃ) সকল প্রকার অনাচার, অবিচার এবং পাপাচার থেকে মানুষকে মুক্ত রাখতে আজীবন চেষ্টা করে গেছেন। নিজে বহু কষ্ট করেছেন, নানা-বাধা বিগ্রহের সম্মুখীন হয়েছেন, লাঞ্চিত অপমানিত হয়েছেন, এমনকি জীবনের উপর বার-বার হুমকি এসেছে তবুও তিনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় ক্ষান্ত হননি।
সুরা সাবা: আয়াত ২৮ এ আল্লাহ তায়ালা তার উদ্দেশ্যে বলেছেন, যার অর্থ ‘আর আমি তোমাকে সমগ্র মানব জাতির জন্যই সু-সংবাদ দাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।’ এ-কথার যথাযথ অনুসরণ তিনি করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কর্তৃক তার মাধ্যমে প্রেরিত কিতাব পবিত্র কোরআনের মধ্যে রয়েছে সর্বকালের সর্বমানবের জন্য হেদায়েতের এবং কল্যানের পথ।
তার জন্মের কয়েক মাস পূর্ব হইতে অনাবৃষ্টিতে সমগ্র আরব দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে পতিত হইলে অর্ধাহারে এবং মহামারীতে যখন মানুষের নাভিশ্বাষ উঠে গিয়েছিল এমনই মূহূর্তে তার জন্যের মাধ্যমে যেন মূহুর্তের মধ্যে স্বর্গ হইতে শান্তিধারা নামিয়া আসিল।
বারীধারা শুষ্ক মুরভূমিকে শিক্ত ও শিতল করিয়া মহামারী আর দুর্ভিক্ষকে দূরিভূত করিল। মানব ইতিহাসে তাহার আবির্ভাব এক অনুপম ঘটনা। যার উদ্দেশ্য ছিল সব ধরনের পৃথক পৃথক জাতি ও মানব গোষ্ঠীকে একই ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ করা-যেখানে জাতি, ধর্ম-বর্ণ, নির্বিশেষে সব ভেদাভেদ বিলিন হয়ে যাবে। সেকারনেই তাকে উদ্দেশ্য করে,
পবিত্র কোরআনের সূরা আম্বিয়ার ১০৭ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন- যার অর্থ ‘আমি তোমাকে বিশ্ব জগতের জন্য কেবল রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ আর সেই রহমতের সুমিষ্ঠ ধারা আজ সারা বিশ্বে প্রবাহিত- যার স্বাদ থেকে আমরাও বঞ্চিত নই। এজন্য আল্লাহর দরবারে অগনিত শুকরিয়া। সকলেই বলি- আলহামদুলিল্লাহ।
লেখক’ পরিচালক, বাইতুন নূর তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিম খানা, বাখুন্ডা, ফরিদপুর।



















