নির্ধারিত আয়ু ও সৃষ্টির রহস্য: কুরআনের অমোঘ বিধান
- আপডেট সময় : ০৯:২৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
- / 9
মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও মানুষের অস্তিত্বের পেছনে মহান আল্লাহর এক নিপুণ পরিকল্পনা কাজ করছে। পবিত্র কুরআনের সুরা ফাতিরের ১১ নম্বর আয়াতে মানুষের সৃষ্টিতত্ত্বের এক অনন্য বর্ণনা পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ মানুষকে প্রথমে মাটি থেকে এবং পরে শুক্রবিন্দু থেকে সৃষ্টি করেছেন। শুধু তাই নয়, প্রকৃতিতে ভারসাম্য বজায় রাখতে তিনি প্রতিটি প্রাণকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন।
সৃষ্টির প্রতিটি পর্যায়ে আল্লাহর জ্ঞান ও নিয়ন্ত্রণ অনস্বীকার্য। একজন নারী তার গর্ভে কী ধারণ করছেন এবং কখন তা ভূমিষ্ঠ হবে, তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষেই জানা সম্ভব। আধুনিক বিজ্ঞান মাতৃগর্ভ নিয়ে গবেষণা করলেও, প্রাণ সঞ্চার ও এর নির্দিষ্ট সময়কাল নির্ধারণের ক্ষমতা কোনো মানুষের হাতে নেই। আয়াতের বর্ণনামতে, মানুষের দীর্ঘায়ু পাওয়া কিংবা আয়ু কমে যাওয়া—সবই এক মহাগ্রন্থে বা ‘লওহে মাহফুজে’ সংরক্ষিত রয়েছে, যা মহান আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজতর একটি বিষয়।
অন্যদিকে, সূরা আল-আরাফের ৩৪ নম্বর আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় জীবনের চূড়ান্ত সময়ের কথা। প্রতিটি জাতি এবং ব্যক্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল বা সময় নির্ধারিত রয়েছে। যখন সেই নির্দিষ্ট সময় বা মৃত্যুর ডাক উপস্থিত হয়, তখন মানুষ চাইলেও তা এক মুহূর্ত পিছিয়ে দিতে পারে না, আবার এক মুহূর্ত এগিয়েও আনতে পারে না। অর্থাৎ, প্রতিটি নিঃশ্বাস মহান রবের পক্ষ থেকে সুনির্ধারিত।
মূলত এই আয়াতগুলো মানুষকে তার তুচ্ছতা ও মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সৃষ্টির সূচনা থেকে শুরু করে জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত সবকিছুই এক ঐশী নিয়মের অধীন। এই শাশ্বত সত্য উপলব্ধি করলে মানুষের মধ্যে যেমন বিনয় তৈরি হয়, তেমনি পরকালীন জীবনের পাথেয় সংগ্রহের তাগিদ অনুভূত হয়।




























