বাংলাদেশ ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Insaf World Banner

অদৃশ্য প্রেম: এক অমর উপাখ্যান : পর্ব ০৭

লেখক: ইমরান হোসেন
  • আপডেট সময় : ১০:২০:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
  • / 95

ছবি: লেখক ইমরান হোসেন

Insaf World Banner
"ইনসাফ বিশ্ব" পত্রিকার নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

(সপ্তম পর্ব: হৃদয়ের নীরবতা ও দিয়ার দ্বিধা)

দিয়ার ভেতরের পরিবর্তন এখন কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই, তা প্রতিফলিত হচ্ছে তার দৈনন্দিন জীবনে। তার বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের কাছে দিয়া এখন কিছুটা অন্যমনস্ক। সে আগের মতো হৈ-হুল্লোড় পছন্দ করে না, বরং নির্জনতা খোঁজে। এই নির্জনতার সুযোগে সে হৃদয়ের জীবনদর্শন এবং তার নতুন করে পড়া বইগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে।

দিয়া বুঝতে পারে, হৃদয়ের নীরবতার গভীরে এমন কিছু আছে, যা সত্য, শান্তি ও ঐশী প্রেমের দিকে ইঙ্গিত করে। এই উপলব্ধি তাকে তার পূর্বের পরিচিত জগত থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। দিয়ার মনে এখন দুটি সত্তার দ্বন্দ্ব চলছে: এক দিকে পারিবারিক ও সামাজিক ঐতিহ্য, অন্যদিকে হৃদয়ের মধ্যে দেখা সেই সার্বজনীন সত্যের প্রতি তীব্র আকর্ষণ।

একদিন দিয়া লাইব্রেরিতে একটি পুরনো ইসলামী পাণ্ডুলিপি দেখছিল। লেখাগুলো ছিল আরবিতে, যা সে পড়তে পারছিল না। হৃদয় তাকে দূর থেকে দেখছিলেন। দিয়া পাণ্ডুলিপিটি রেখে যখন ফিরে যাচ্ছিল, তখন হৃদয় এগিয়ে এসে বললেন, “দিয়া, তুমি যে বইটি দেখছো, তাতে আল্লাহ পাকের সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা আছে। তুমি যদি এর অর্থ জানতে চাও, আমি সাহায্য করতে পারি, তবে এই কাজটি অত্যন্ত গোপন ও ব্যক্তিগত।”

হৃদয়ের এই কথাগুলো দিয়ার কাছে যেন একটি ঐশী আমন্ত্রণ মনে হলো। হৃদয় তার দিকে তাকাননি, বরং মেঝেতে রাখা একটি ধূলি জমা বইয়ের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলছিলেন। তার এই সংযম দিয়াকে বুঝিয়ে দিল যে হৃদয় তাকে কোনো প্ররোচনা দিচ্ছেন না, বরং তার নিজের অনুসন্ধানে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। দিয়ার চোখে জল এসে গেল। সে বুঝতে পারল, এই মানুষটি তাকে শুধুমাত্র কল্যাণ দিতে চায়।

দিয়া সাহস করে জিজ্ঞেস করল, “হৃদয় ভাই, আপনি কেন আমাকে এই বিষয়ে গোপনে সাহায্য করতে চাইছেন? আপনি তো অন্য সবার সামনেও বলতে পারতেন।”

হৃদয় মৃদু হেসে বললেন, “যে পথে মালিকের সন্ধান মেলে, সে পথটি খুব ব্যক্তিগত, দিয়া। সেই পথে আলো খুঁজতে গেলে অনেক সময় পরিবার ও সমাজের বিরুদ্ধে একা দাঁড়াতে হয়। আমার ভয় হয়, তোমার এই সত্যের অনুসন্ধান যেন তোমার জীবনে কোনো বিপত্তি না নিয়ে আসে। আমি শুধু তোমার নির্ভরযোগ্য ছায়া হতে চাই।”

দিয়ার দ্বিধা মুহূর্তে কেটে গেল। সে হৃদয়ের নিষ্কাম ভালোবাসার শক্তি অনুভব করল। দিয়া স্থির করল—সে এখন আর পেছনে ফিরবে না। তার জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যের সন্ধানে সে এখন ঝাঁপিয়ে পড়বে, যার আলোর উৎস হলো মহান আল্লাহ পাকের মহত্ত্ব এবং হৃদয়ের নীরব অনুপ্রেরণা।

চলবে……….

সংবাদটি শেয়ার করুন :
Insaf World Banner 1
Insaf World Banner 2

অদৃশ্য প্রেম: এক অমর উপাখ্যান : পর্ব ০৭

আপডেট সময় : ১০:২০:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

(সপ্তম পর্ব: হৃদয়ের নীরবতা ও দিয়ার দ্বিধা)

দিয়ার ভেতরের পরিবর্তন এখন কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই, তা প্রতিফলিত হচ্ছে তার দৈনন্দিন জীবনে। তার বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের কাছে দিয়া এখন কিছুটা অন্যমনস্ক। সে আগের মতো হৈ-হুল্লোড় পছন্দ করে না, বরং নির্জনতা খোঁজে। এই নির্জনতার সুযোগে সে হৃদয়ের জীবনদর্শন এবং তার নতুন করে পড়া বইগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে।

দিয়া বুঝতে পারে, হৃদয়ের নীরবতার গভীরে এমন কিছু আছে, যা সত্য, শান্তি ও ঐশী প্রেমের দিকে ইঙ্গিত করে। এই উপলব্ধি তাকে তার পূর্বের পরিচিত জগত থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। দিয়ার মনে এখন দুটি সত্তার দ্বন্দ্ব চলছে: এক দিকে পারিবারিক ও সামাজিক ঐতিহ্য, অন্যদিকে হৃদয়ের মধ্যে দেখা সেই সার্বজনীন সত্যের প্রতি তীব্র আকর্ষণ।

একদিন দিয়া লাইব্রেরিতে একটি পুরনো ইসলামী পাণ্ডুলিপি দেখছিল। লেখাগুলো ছিল আরবিতে, যা সে পড়তে পারছিল না। হৃদয় তাকে দূর থেকে দেখছিলেন। দিয়া পাণ্ডুলিপিটি রেখে যখন ফিরে যাচ্ছিল, তখন হৃদয় এগিয়ে এসে বললেন, “দিয়া, তুমি যে বইটি দেখছো, তাতে আল্লাহ পাকের সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা আছে। তুমি যদি এর অর্থ জানতে চাও, আমি সাহায্য করতে পারি, তবে এই কাজটি অত্যন্ত গোপন ও ব্যক্তিগত।”

হৃদয়ের এই কথাগুলো দিয়ার কাছে যেন একটি ঐশী আমন্ত্রণ মনে হলো। হৃদয় তার দিকে তাকাননি, বরং মেঝেতে রাখা একটি ধূলি জমা বইয়ের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলছিলেন। তার এই সংযম দিয়াকে বুঝিয়ে দিল যে হৃদয় তাকে কোনো প্ররোচনা দিচ্ছেন না, বরং তার নিজের অনুসন্ধানে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। দিয়ার চোখে জল এসে গেল। সে বুঝতে পারল, এই মানুষটি তাকে শুধুমাত্র কল্যাণ দিতে চায়।

দিয়া সাহস করে জিজ্ঞেস করল, “হৃদয় ভাই, আপনি কেন আমাকে এই বিষয়ে গোপনে সাহায্য করতে চাইছেন? আপনি তো অন্য সবার সামনেও বলতে পারতেন।”

হৃদয় মৃদু হেসে বললেন, “যে পথে মালিকের সন্ধান মেলে, সে পথটি খুব ব্যক্তিগত, দিয়া। সেই পথে আলো খুঁজতে গেলে অনেক সময় পরিবার ও সমাজের বিরুদ্ধে একা দাঁড়াতে হয়। আমার ভয় হয়, তোমার এই সত্যের অনুসন্ধান যেন তোমার জীবনে কোনো বিপত্তি না নিয়ে আসে। আমি শুধু তোমার নির্ভরযোগ্য ছায়া হতে চাই।”

দিয়ার দ্বিধা মুহূর্তে কেটে গেল। সে হৃদয়ের নিষ্কাম ভালোবাসার শক্তি অনুভব করল। দিয়া স্থির করল—সে এখন আর পেছনে ফিরবে না। তার জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যের সন্ধানে সে এখন ঝাঁপিয়ে পড়বে, যার আলোর উৎস হলো মহান আল্লাহ পাকের মহত্ত্ব এবং হৃদয়ের নীরব অনুপ্রেরণা।

চলবে……….

সংবাদটি শেয়ার করুন :