পাঞ্জাবে ধর্ষণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার, স্কুল-কলেজ বন্ধ
- আপডেট সময় : ১০:৫৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৪
- / 223
পাকিস্তানের পূর্ব পাঞ্জাব প্রদেশে একটি ক্যাম্পাসে ধর্ষণের অভিযোগের পর শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভের উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) প্রদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুই দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। এতে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিক্ষার্থী প্রভাবিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভের সূত্রপাত লাহোর শহরের একটি কথিত ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে, যা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পাঞ্জাবের চারটি শহরে ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নেমে আসে। গুজরাট শহরে বুধবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হন এবং ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে।
পাঞ্জাবের লাহোরে পাঞ্জাব গ্রুপ অব কলেজের ক্যাম্পাসে ধর্ষণের অভিযোগ উঠলেও পুলিশ ও সরকারি কর্তৃপক্ষ এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে। একইসঙ্গে, সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকসহ প্রায় তিন ডজন মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানিয়েছে, তারা শুক্রবার সন্ধ্যায় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে সমাবেশ করবে।
এদিকে, রাওয়ালপিন্ডির গ্যারিসন শহরে শিক্ষার্থীদের একটি কলেজ ভবনে হামলার পর কর্তৃপক্ষ পাঞ্জাবের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেয়। সেখানে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে এবং আড়াইশোর বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে।
বিক্ষোভটি স্বতঃস্ফূর্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ ১৯৮৪ সাল থেকে পাকিস্তানে ছাত্র ইউনিয়ন নিষিদ্ধ। ফলে, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী কোনো সংগঠন নেই।
অন্যদিকে, কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পিটিআই ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা শুক্রবার দেশের সংবিধানের যেকোনো সংশোধনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করবে। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ তার পছন্দের বিচারক নিয়োগ দিতে চান এবং সুপ্রিম কোর্টের সমান্তরালে নতুন সাংবিধানিক আদালত গঠন করতে চান। তবে সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পাকিস্তানে যৌন সহিংসতা সাধারণ ঘটনা হলেও, সমাজের রক্ষণশীলতার কারণে এসব ঘটনা কম প্রকাশ্যে আসে। ফলে নারীদের বিরুদ্ধে হওয়া এই ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভও দেশটিতে খুবই বিরল।
























