রাষ্ট্রপতিকে অপসারণে ঐকমত্য গঠনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের তৎপরতা
- আপডেট সময় : ১০:২১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪
- / 266
- বিএনপি সময় চেয়েছে সিদ্ধান্ত নিতে
- দ্রুত পদত্যাগের পক্ষে জামায়াতসহ অধিকাংশ দল
- চুপ্পুকে পদত্যাগ করতেই হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে অপসারণের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গঠনের জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি নানা দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল শনিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছে তারা। বৈঠকটি বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে শুক্রবার তারা জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছে। আজ রবিবার তারা গণতন্ত্র মঞ্চসহ ১২ দলের সঙ্গে আলোচনায় বসবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর বিএনপি জানায়, দলীয় ফোরামে আলোচনা করে রাষ্ট্রপতির অপসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি অপসারণের দাবির পক্ষে একমত প্রকাশ করেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মতে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর দ্রুত অপসারণই এখন প্রয়োজন।
আলোচনায় তিনটি মূল বিষয়
বৈঠক শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “গত ২৩ অক্টোবর আমরা জাতীয় ছাত্র ঐক্যের ডাক দিয়েছিলাম। ইতোমধ্যে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান করে শেখ হাসিনার পতন ঘটিয়েছি। এখন আমাদের সামনে আরেকটি বাধা হলো রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ।”
তিনি আরও জানান, বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় তিনটি বিষয় ছিল। প্রথমত, সেকেন্ড রিপাবলিক গঠন এবং তার ঘোষণার বিষয়। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে কীভাবে দ্রুততম সময়ে অপসারণ করা যায় এবং দেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধানের উপায়। তৃতীয়ত, জাতীয় ঐক্য ধরে রেখে সরকারের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিএনপির সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি
হাসনাত বলেন, “বিএনপি আমাদের বার্তা শুনে দলীয় ফোরামে আলোচনা করবে এবং পরবর্তীতে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।” জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকেও রাষ্ট্রপতির অপসারণ ইস্যুতে ঐক্যমতে পৌঁছানো হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে বৈঠকেও তারা চুপ্পুর অপসারণকে নৈতিক দাবি বলে উল্লেখ করেছেন।
আগামীতে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, এবং গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করে আরও ঐকমত্য তৈরি করা হবে বলে জানান হাসনাত আবদুল্লাহ।
বৈঠকের উপস্থিতি
গতকাল বিকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বৈষম্যবিরোধী ও নাগরিক কমিটির সাতজন সদস্য অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখপাত্র উমামা ফাতেমা, সদস্য সচিব আরিফ সোহেল, মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ, সমন্বয়ক রিফাত রশিদ, জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, মুখপাত্র সামন্তা শারমিন, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং সদস্য আরিফুল ইসলাম আদিব।
বিএনপির পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও যুগ্ম-মহাসচিব শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
পটভূমি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবি জানিয়েছে। গত ২৩ অক্টোবর বিএনপির শীর্ষ নেতারা এই দাবির বিষয়ে বৈঠক করে জানান যে, তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাংবিধানিক সংকট চান না। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি তাদের দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিএনপি ও অন্যান্য দলের সঙ্গে বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
























