নলডাঙ্গায় খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় গাছিদের
- আপডেট সময় : ০১:০৮:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
- / 107
এখন হেমন্তকাল। কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়ে বিকেলের রোদে পাকা ধানের সোনালী রং শুভেচ্ছা জানাচ্ছে নবান্ন উৎসবকে। অপরদিকে ভোরের কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্যের রশ্মি সবুজ ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির বিন্দুর মাধ্যমে জানিয়ে দিচ্ছে উত্তরের জনপদ নাটোরের নলডাঙ্গায় শীতের আগমনী বার্তা।
কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাস মূলত নবান্ন উৎসবের মাস। এ সময় বাঙালির ঐতিহ্য বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে নতুন ধানের পিঠা আত্মীয়তার দৃঢ় বন্ধন তৈরি করে। আর এই পিঠা-পুলি উৎসবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে খেজুরের গুড়।
এরই মধ্যে খেজুরের গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নলডাঙ্গা উপজেলার খেজুরের রস সংগ্রহকারী গাছিরা।
নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ কিষোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, উপজেলায় ৩৬ হেক্টর জমিতে খেজুরের গাছ রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার ৬০০টি। এর মধ্যে রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত আছে ৮ হাজারটি খেজুরগাছ। এ বছর গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬৮ মেট্রিক টন, যার সম্ভাব্য মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা।
স্থানীয় গাছিরা জানিয়েছেন, আশ্বিনের শেষ ও কার্তিকের শুরুতেই রস সংগ্রহের জন্য গাছ প্রস্তুত করেন তারা।
উপজেলার কয়েকজন গাছির সাথে কথা বলে জানা গেছে, নলডাঙ্গা উপজেলার গুড়ের মান ভালো হওয়ায় অনলাইন শপের ব্যবসায়ীরা গাছিদের ঘর থেকেই নগদ টাকায় গুড় সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। এতে দেশের পাশাপাশি দেশের বাইরেরও গুড়প্রেমীরা উপকৃত হচ্ছে। এতে গাছিদের আড়ত ও বাজারে যাতায়াত খরচসহ অতিরিক্ত খরচ সাশ্রয় হচ্ছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুড়ের ব্যাপক চাহিদায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গাছিরা।
তবে গুড়ের পাশাপাশি খেজুরের রস খেতে ভালোবাসেন অনেকেই। কিন্তু রস খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, কারণ বাদুড়ের লালা ও বিষাক্ত প্রাণীর সংস্পর্শে আসলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে।
উপজেলার হরিদা খলসী গ্রামের রুবেল হোসেন বলেন, চার বছর আগে তার তিন বছর বয়সী ছেলে শাফি খেজুরের রস খেয়ে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তিনি বলেন, “খেজুরের রস খাওয়ার আগে বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা উচিত।”
খেজুরের রস পান করা বিষয়ে সকলের উদ্দেশে সতর্কতা মূলক বার্তা দিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসার । তিনি বলেন, “বিশুদ্ধতা নিশ্চিত না করে কাঁচা রস খাওয়া প্রাণনাশের কারণ হতে পারে।”





























