বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি নরেন্দ্র মোদি
- আপডেট সময় : ০৭:৫১:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৪
- / 194
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতীয় উপমহাদেশের শান্তি সংকটের মুখে পড়েছে। ভারতের নিকটতম বা দূরবর্তী কোনো প্রতিবেশীই ভারত সরকারের আক্রমণাত্মক নীতির হাত থেকে নিরাপদ নয়।
ভারতের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানে। সম্প্রতি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। চরমপন্থী এবং মুসলিমবিরোধী মতাদর্শে বিশ্বাসী আরএসএসের সমর্থক হিসেবে রাজনাথ সিং এবং মোদিকে ভারতের চরমপন্থী মহলে পছন্দ করা হয়।
কাশ্মীরে ভারতীয় সন্ত্রাসবাদ ক্রমাগত বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জাতিসংঘের প্রস্তাব অমান্য করে ভারত সরকার সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মীরের স্বতন্ত্র মর্যাদা পরিবর্তনের চেষ্টা করে। এরপর থেকে পাঁচ বছরে এই এলাকা গভর্নরের শাসনে ছিল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জম্মু-কাশ্মীরের স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপির পরাজয় স্পষ্ট করেছে যে, জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা গুলি ও দমননীতি দিয়ে চিরস্থায়ীভাবে কণ্ঠরোধ করা সম্ভব নয়।
কাশ্মীরিদের লড়াই আন্তর্জাতিকভাবে ভারতীয় সন্ত্রাসবাদকে প্রতিহত করছে। সম্প্রতি ভারতের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কাশ্মীর থেকে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং নেপাল হয়ে কানাডাসহ পশ্চিমা দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৩ সালের জুনে কানাডায় শিখ স্বাধীনতা সংগ্রামী হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভারতীয় এজেন্টদের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কানাডা সরকার ছয় ভারতীয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করে এবং তদন্তে দেখা যায়, ভারত সরকারের এজেন্টরা কানাডায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, যা সমাজ ও নাগরিকদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শুধু কানাডা নয়, যুক্তরাষ্ট্রেও বিস্তার লাভ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এজেন্টরা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর নির্দেশে আমেরিকান শিখ নাগরিক গুরপতবন্তের ওপর আক্রমণের ষড়যন্ত্র বানচাল করেছে। ভারত সরকারের এই সন্ত্রাসী নীতি বিশ্বের শান্তির জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্ব নেতৃত্বের জন্য অগ্রসর হতে চাওয়া মোদির জানা উচিত যে, সত্যিকারের নেতৃত্ব বন্দুক বা সন্ত্রাসের মাধ্যমে আসে না; এটি আসে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। তাই বিশ্ব নেতাদের উচিত ভারতীয় সন্ত্রাসের এই পথ বন্ধ করা। অন্যথায় যেকোনো মুহূর্তে বিশ্ব শান্তি হুমকির মুখে পড়তে পারে।

























